বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪২,৮৪৪
সুস্থ
৯,০১৫
মৃত্যু
৫৮২

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬,০৪৫,৩২৮
সুস্থ
২,৬৭১,৪২৭
মৃত্যু
৩৬৭,১১১

কোভিড-১৯ থেকে বেচে থাকার কিছু উপায়। ডা. সাইফুল ইসলাম ইস্পাহানী Songbadbd.com

৩ মে ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেধক :এ,এইচ,এম রাফছান উদ্দীন খোন্দকার

১। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সারা দেশ এবং বিশ্ব আজ আতঙ্কিত। এ অবস্থায় সত্যিই কি আতঙ্কের কোনো কারণ আছে?
ধন্যবাদ।
অবশ্যই করোনা সংক্রমণ অনেক বেশী আতংকের একটি ব্যাপার। আপনি দেখছেন, এই ভাইরাস অতি দ্রুত সারা বিশ্বে সংক্রমিত হয়েছে এবং প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন।
তাছাড়া একদম নতুন ভাইরাস বলে এর সংক্রমণ পদ্ধতি, প্রকৃতি সম্পর্কেও আমরা একদম নিশ্চিত নই। এখন পর্যন্ত এর কোন ঔষধ বা টিকাও আবিষ্কৃত হয় নি। তাই, পুরো পরিস্থিতি সত্যিই আতংকিত হবার মত। তবে, সবচেয়ে বড় আতংকের ব্যাপার হচ্ছে, আমরা এর ভয়াবহতা এখনো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছি না বলে আমরা এখনো পর্যাপ্ত সচেতন নই। এটিই সবচেয়ে বড় আতংক।

২। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ২৬ মার্চ থেকে। এই অঘোষিত লকডাউনেও মানুষ অপ্রয়োজনে বাসা থেকে বের হচ্ছে। এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে?

আসলে, এটা অত্যন্ত কষ্টের একটি ব্যাপার! যেখানে, প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হওয়া ঠিক না, সেখানে অপ্রয়োজনে বের হয়ে তো মর্মান্তিক পরিণতি ই ডেকে আনা হচ্ছে! দেখুন, পশ্চিমের দেশগুলি আমাদের থেকে অনেক বেশী সচেতন, তাদের স্বাস্থ্য কাঠামো অনেক উন্নত, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। আমাদের মত দিনে এনে দিনে খাওয়া লোকের পরিমান তাদের অনেক কম। কিন্তু, তারপরেও সেখানে মৃত্যুর মিছিল দেখা যাচ্ছে! তাহলে, আমাদের অসচেতনতার ফলাফল কি মারাত্বক পরিণতি বয়ে আনতে পারে, তা আমি আর মুখে প্রকাশ করতে চাই না। আল্লাহ পাক আমাদের রক্ষা করুন।
৩| কোভিড-১৯ এ কোন বয়সীদের জন্য ঝুঁকি বেশি?
আসলে, ভাইরাসটি একদম নতুন বলে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। যা কিছুই বলা হচ্ছে, অধিকাংশই হাইপোথিসিস।

দেখা যাচ্ছে, সব বয়সের ব্যক্তিই এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। তবে, শিশু এবং বৃদ্ধ ব্যাক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা বেশী ঝুকিপূর্ণ। তাছাড়া, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী রোগ আছে যেমন ডায়াবেটিস, যক্ষা, ক্যান্সার বা শ্বসনতন্ত্রের রোগ যেমন হাপানি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এমন ওষুধ সেবন করেন, তারা অধিক ঝুকিপূর্ণ।
৪। করোনার সুনির্দিষ্ট লক্ষণগুলো কী কী?

আক্রান্ত ব্যাক্তির মাঝে প্রথমদিকে অবসাদগ্রস্ততা বা ক্লান্তিভাব প্রকাশ পায়।
পরবর্তীতে পেশীতে ব্যাথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যাথা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।
শেষ পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাবার মত ঘটনা ঘটতে পারে।

৫| যদি করোনার লক্ষণ দেখা যায় তবে তার করণীয় কী কী হতে পারে?

লক্ষণ প্রকাশিত হলে তিনি ঘরে অবস্থান করবেন। পরিবারের অন্যদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখবেন। আইইডিসিআর এর হটলাইন নাম্বার অথবা নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করবেন। করোনা নিয়ন্ত্রন টিম তার বাসা থেকেই পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল কালেকশন করবেন এবং তাকে নির্দেশনা প্রদান করবেন। তার উচিৎ হবে, নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলা।

৬| এই দুঃসময়ে ডাক্তাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য আপনি কোনো নির্দেশনা দিতে চান?

আসলে, ডাক্তারদের জন্য আর কোন নির্দেশনা প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সম্পদের অপ্রতুলতা এবং অনেকের তীর্যক বা বাজে মন্তব্যের পরেও শুধুমাত্র সেবার মানসিকতা ও নিজদের পেশাগত শপথে বলীয়ান হয়ে ধৈর্যের সাথে জীবনের হুমকি সত্ত্বেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি শুধু তাদের প্রতি সম্মান আর কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করতে চাই। শুধুমাত্র চিকিৎসক নয়, সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিই আমি স্যালুট জানাচ্ছি।
৭। দেশবাসীর প্রতি আপনি কিছু বলতে চান?
ধন্যবাদ।

আপনার সবচেয়ে দামী প্রশ্ন এটা। আমরা সচেতন থাকলে করোনা থেকে অবশ্যই মুক্তি পাবো ইনশাআল্লাহ। আমি দেশের মানুষদের বলবো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোজখবর রাখুন। এর ভয়াবহতাই আপনাকে সচেতন হতে ও কিছুদিন ঘরে থাকার ধৈর্য ধারনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাসমুহ মেনে চলুন। হাচি কাশির শিষ্টাচার, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা করোনা প্রতিরোধের মূলমন্ত্র। এসময় অধিক আমিষযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার খান।শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের প্রতি অধিক খেয়াল রাখুন। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আপনি মানবিক থাকুন। আপনার ও আপনার পরিবারের বেচে থাকার স্বার্থে ঘরে থাকুন, করোনা মুক্ত থাকুন। ঘরে বসে এই অবসরে মহান করুনাময়ের কাছে সকলের জন্যই প্রার্থনা করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, আমিন।

ডা. সাইফুল ইসলাম ইস্পাহানী
করোনা বিষয়ক মুখ্য কর্মকর্তা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,
ফুলগাজী, ফেনী।