বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪২,৮৪৪
সুস্থ
৯,০১৫
মৃত্যু
৫৮২

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬,০৪৫,৬৫৩
সুস্থ
২,৬৭১,৪৪০
মৃত্যু
৩৬৭,১১৬

চাঁদের চারপাশে একটি বৃত্ত কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে? Songbadbd.com

১৮ মে ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেধকঃ এ,এইচ,এম রাফছান উদ্দীন খোন্দকার

আমরা রাতের আকাশে চাঁদ অথবা দিনের আকাশে সূর্য চারপাশে ভালো করে লক্ষ্য করলে মাঝে মাধ্যে দেখতে পাই, একটি বৃত্ত চাঁদকে ঘিরে রেখেছে অথবা চাঁদের চারপাশে একটি বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগে থাকে যে, এটি কেন অথবা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
চাঁদ বা সুর্যের চারপাশে যে একটি আলোর বৃত্তের বলয় দেখা যায় তার নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা ‘বর্ণবলয়
(colour halo)’।

প্রশ্ন হচ্ছে এটি কেন সৃষ্টি হয়?

একটি কথা আছে ইংরেজীতে,
‘Ring around the moon, means rain soon/চাঁদের চারপাশে বলয়ের সৃষ্টি, মানে আসন্ন বৃষ্টি।’
কথাটি আসলেই সত্য। তার সত্যতা পাওয়া গেয়িছে। কারন, একটি ঝড়ের আগে অনেক উচ্চ আলোকমেঘ সৃষ্টি হয়ে থাকে।আমরা সূর্য বা
চাঁদের চারপাশে সে বর্ণবলয় তখন দেখি আসলে প্রকৃতপক্ষে খুবই পাতলা রঙিন মেঘগুলো আমাদের মাথার ২০,০০০ ফুট উপরে জমা হতে থাকে।মেঘগুলোতে থাকে মিলিয়ন মিলিয়ন অতি ক্ষুদ্র বরফ ক্রিস্টাল বা স্ফটিক।আর এই বর্ণবলয়ের সৃষ্টি হয় ঐ সব বরফ স্ফটিকের প্রতিসরণে ফলে, বা প্রতিফলন হয় উভয়ের মাধ্যমেই।চাঁদের আলো স্ফটিকের ভেতর প্রবেশ করে থাকে এবং ঠিক ২২ ডিগ্রী কোণে প্রতিসারিত হয়ে থাকে। সেই স্ফটিকগুলো ঠিক সেভাবেই সজ্জিত ও বিন্যস্ত হয়ে থাকে ঠিক যেভাবে আমরা আমাদের চোখের সাপেক্ষে বর্ণবলয়টা দেখি।

আর মূলত এ কারনেই চাঁদ বা সুর্যের চারপাশে এই বর্ণবলয় সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই বর্নবলয়ের ব্যাস হয়ে থাকে ২২ ডিগ্রী পর্যন্ত(গড়ে ২১.৮৪ ডিগ্রী, লাল আলোর জন্য এর মান হয় ২১.৫৪ ডিগ্রী ও নীল আলোর জন্য হয় ২২.৩৭ ডিগ্রী)। আবার ৪৬ ডিগ্রী ব্যাসেরও বর্ণবলয় দেখা যায়, তবে সেটা খুবই নগন্য। যখন দিগন্ত হতে সূর্যের উচ্চতা যখন ১৫-২৭ ডিগ্রী থাকে তখন ৪৬ ডিগ্রী ব্যাসের বর্ণবলয় সৃষ্টি হয় যা ২২ ডিগ্রীর তুলনায় দ্বিগুন বড়ো হয়ে থাকে।যখন আপনি চাঁদের চারপাশে বর্ণবলয় দেখতে পান তখন ভালোভাবে লক্ষ্য করুন।

কারন, চাঁদের আলো কিন্তুু খুব একটা উজ্জ্বল হয় না, চাঁদের বর্ণবলয় প্রায় বর্ণহীন হয়ে থাকে।কিন্তুু আপনি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে, চাঁদের সে বর্ণবলয়ের সীমানা ঘেষে ঠিক ভেতরের দিকে প্রান্তের রঙ লাল হয়ে থাকে, আবার ঠিক কিনারা ঘেষেই বর্ণবলয়ের বাইরের দিকের রঙ নীল হয়ে থাকে। এই রঙ গুলো খুব সহজেই সূর্যের বর্ণবলয়ের চারপাশে লক্ষ্য করলে দেখা যায়। যখন আপনি চাঁদ বা সূর্যের চারপাশে বর্ণবলয় দেখতে পাবেন,তখন ভালো করে লক্ষ্য করুন বলয়ের ভেতরের অংশটি পরিষ্কার এবং যেখানে বাইরের অংশটি তুলনামোলক ভাবে অনেকটা বিক্ষিপ্ত রঙের হয়ে আছে ।

আরও লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, যে
বলয়টির চারপাশের আকাশ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বেশী অন্ধকারতর হয়ে আছে। গত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীর ৩ তারিখে রাতে এস্তোনিয়ার আকাশে চাঁদের বর্ণবলয়ের ভেতর বৃহস্পতি গ্রহকেও বেশ ভালভাবে দেখা গিয়েছিলো।অার্কটিক অঞ্চলে বা উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর বরাবর মুন পিলার(Moon pillar) এবং সান পিলার (sun pillar)। এটিও ঠিক একই
কারনে ঘটে থাকে। চাঁদ হতে প্রতিফলিত আলো ভূ-পৃষ্ঠের
কাছাকাছি সেই বরফ ক্রিস্টালে প্রতিফলিত হয়ে থাকে এবং পিলারের মতো আলোক তখন দিপ্তীর সৃষ্টি করে।